নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী):
ঝড় বৃষ্টি এলে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে, তখন অন্যের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। তিন বেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না, বই কেনা বা প্রাইভেট পড়া তো বিলাসিতা। এভাবেই নিজেদের চরম দুর্দশার কথা বলছিলেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া বৈশ্য পাড়া গ্রামের শ্রীমতি রুপালী রানী রায়।অভাবের তাড়নায় তার দ্বিতীয় মেয়ে রিপা রানী রায় ২০২৬ সালের চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। রিপা মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা থেকে ফরম পূরণ করলেও প্রস্তুতি না থাকায় পরীক্ষায় বসতে পারেননি।
রুপালী রানীর স্বামী অন্নদাশ রায় অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। নিজের বসতভিটা না থাকায় মৃত বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন এই দম্পতি। বর্তমানে তাদের সংসারে অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী। বড় মেয়ে: মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে তিন বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। মেজ মেয়ে (রিপা): টাকার অভাবে বই কিনতে না পেরে ঝরে পড়ার উপক্রমে। ছোট মেয়ে (অন্তরা): স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বিনা বেতনে পড়ছে।রুপালী রানী নিজে একটি কিন্ডারগার্টেনে আয়ার কাজ করে যা পান, তা দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
থাকার ঘরটির অবস্থা এতটাই জীর্ণ যে সামান্য বৃষ্টিতেই তা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তা যথেষ্ট নয়।
নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই সংসারে দুই মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শ্রীমতি রুপালী রানী তার মেয়েদের শিক্ষার দায়িত্ব এবং মাথা গোঁজার জন্য একটি নতুন ঘরের আকুতি জানিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টিই এখন এই পরিবারের শেষ ভরসা।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply